শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

অশান্ত বাজার পরিস্থিতি

আমাদের দেশের মত অশান্ত ও অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতি বিশে^র আর কোন দেশে দেখা যায় না। বাজার ব্যবস্থা ফড়িয়া ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাজারে অস্থিরতা কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারে বেশির ভাগ শাকসবজি এখনো উচ্চ দরেই বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় ফার্মের মুরগির ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা দরে। ডিমের পাশাপাশি কমেছে কাঁচা মরিচের দামও। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ এখনো কম। গত কয়েক মাসে দেশে বন্যা-বৃষ্টির কারণে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সবজির দাম শিগগিরই কমছে না। অন্যদিকে বড় উৎপাদক কোম্পানিগুলো সরাসরি আড়তে ডিম সরবরাহ শুরু করেছে। এতে ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে।

গতকাল রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ২২০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। বিক্রেতারা জানান, পূজার ছুটির কারণে মাঝখানে বেশ কয়েক দিন মরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। এখন আমদানি স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম আরও কমবে।

আগের সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বাজারে এখনো বেশির ভাগ শাকসবজির দাম চড়া। গত সপ্তাহের তুলনায় বেগুনের দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়ে গতকাল ১২০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স, পটল, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা ও ঝিঙে ৮০-১০০ টাকায়; কাঁকরোল ১০০-১২০ টাকায়; করলা ও বরবটি ১২০-১৪০ টাকায়; মিষ্টিকুমড়া ও দেশি শসা ৭০-৮০ টাকায় এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অবশ্য কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারে আরও কিছুটা কমে এসব সবজি কেনা গেছে।

সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার শাকের দামও বেশি। গতকাল লালশাকের আঁটি ২০-৩০ টাকা, পুঁইশাক ৪০-৫০ টাকা ও লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দাম আগের মতোই রয়েছে। এর বাইরে মাঝারি মানের চালে ৩-৪ টাকা ও শুকনা আদা কেজিতে ৪০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। গতকাল মাঝারি মানের ব্রি-২৮ চাল ৬২ টাকায় ও ব্রি-২৯ চাল ৬২-৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুকনা আদা ২৬০-২৮০ টাকায় আর কাঁচা আদা বিক্রি হয়েছে ১৮০-২০০ টাকায়।

বাজারে যেসব পণ্যের দাম কমেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাঁচা মরিচ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে প্রায় ২০০ টাকার মতো কমেছে। গত সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪০০-৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তা ২২০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। বিক্রেতারা জানান, পূজার ছুটির কারণে মাঝখানে বেশ কয়েক দিন মরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। এখন আমদানি স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম আরও কমবে। সাধারণ ভোক্তা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের বড় উদ্বেগের জায়গা এখন ডিমের বাড়তি দাম। আগের সপ্তাহজুড়ে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছিল ১৭০-১৮০ টাকায়; কখনো তা ১৯০ টাকাতেও উঠেছিল। তবে এখন এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। তবে পাড়ামহল্লায় এ দাম কিছুটা বেশি ছিল। ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও চড়া। গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি মাসে দুই দফায় মোট ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে অন্তর্র্বর্তী সরকার। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে ডিমের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। এ ছাড়া ডিম উৎপাদনকারী বড় কোম্পানি ও ছোট খামারিরা সরকার নির্ধারিত দামে সরাসরি পাইকারি আড়তে ডিম পাঠানো শুরু করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম।

ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও চড়া। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ঢাকার ডিম আড়তদারেরা জানান, শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে সরকার নির্ধারিত দরে ঢাকার তেজগাঁও ও কাপ্তানবাজারে ডিম সরবরাহ করলে পণ্যটির দাম সহনীয় থাকবে।

আড়তদারেরা আরও জানাচ্ছেন, তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদকদের প্রতিদিন ১৫ লাখ করে ৩০ লাখ ডিম সরবরাহ করতে হবে। তার বাইরে প্রতিষ্ঠানগুলোর যে পরিমাণ ডিম থাকবে, সেগুলোও সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সভায় তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে শীতের সবজি চলে এলে ডিমের ওপর চাপ কমে আসতে পারে। তখন দাম আরও কমবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হলেও দেশের মানুষ অনেকটাই আশাহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি। ফলে দ্রব্যমূল্য এখন রীতিমত আকাশচুম্বী। ফলে বেশী সমস্যায় পড়েছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। এমতাবস্থায় অশান্ত বাজার পরিস্থিতিকে শান্ত করা না গেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞ মহল। যা কাক্সিক্ষত ও কাম্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ